তবুও আমি তোমার

সবকিছু থেকেও রেজা সাহেবের যেন কিছু নেই, ঘরে সুন্দরী স্ত্রী আছে, গাড়ি আছে, আলীশান শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাসায় বসবাস করেন, বিলাসবহুল জীবন-যাপন করেন। সবকিছু থাকার মধ্যেও যেন তার মনে সুখ নেই। এত অর্থ বিত্তের মধ্যে তার মন সব সময় একটা অভাব অনুভব করে। মনের মধ্যে সব সময় একটা কথাই খচখচ করে দাগ কাটে, এতকিছু ভোগ করবে কে? এত বড় বাসা দিন-রাত নিঃসঙ্গতায় খাঁ খাঁ করে। বাসাটা যেন মরুভূমি, মনের মধ্যে উত্তাপ, যেন মরীচিকা খেলে যায়। সারাদিন কাজ শেষে রেজা সাহেব যখন বাসায় ফিরেন তখন কাকলীর চিন্তাক্লিষ্ট মুখ দেখে তার মন বেদনায় ভরে যায়। তাদের অভাব শুধু একটাই, ঘরে কোন সন্তান-সন্ততি নেই। রেজা সাহেবের বিশাল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, ঢাকা শহরে তার জমি-জমা টাকা-পয়সার অভাব নেই। কিন্তু একটা সন্তানের অভাবে তার জীবনের সমস্ত উন্নতি, সমস্ত আভিজাত্য যেন ম্লান হয়ে গেছে। রেজা সাহেবের স্ত্রী কাকলী ভদ্র, শান্ত-শিষ্ট, সদালাপী এবং উদার মনের মহিলা, তার মনের মধ্যে কোন অহমিকা নেই কিন্তু তার মনের মধ্যেও সবসময় মাতৃত্ব শূন্যতা কাজ করে।

বিয়ের প্রায় পনের বছর অতিক্রান্ত হলো অথচ তারা বিয়ের পাঁচ বছর পর থেকে একটা সন্তানের জন্য কত যে ডাক্তার, কবিরাজ এবং ফকিরের কাছে গিয়েছেন তার কোন ইয়ত্তা নেই। অবশেষে দু’জন সিঙ্গাপুর গিয়ে উভয়ই চিকিৎসা করানোর পর নিরাশ হয়ে দেশে ফিরে এসেছেন। তারপর সন্তানের জন্য আর কোথাও যাননি। তারা তাদের এই ইচ্ছা পূরণের জন্য কাকলী তার খালাত বোনের একটা বাচ্চা পোষ্য হিসেবে গ্রহণের জন্য তার খালাত বোনের কাছে কত অনুনয় বিনয় করেছিলেন কিন্তু সন্তানের মায়া কার না আছে? তিনি পাঁচটি কন্যা সন্তানের জননী হলেও নিজের খালাত বোনকে কোন মেয়েকেই দিতে রাজি হননি, কাকলী সেখান থেকে ফিরে আসার পর রেজা সাহেবকে নিয়ে এক এতিম খানায় গিয়েছিলেন কিন্তু সেখান থেকে সন্তান নিতে যেসব শর্ত পূরণ করতে হয় তাতে সন্তানের পূর্ব পরিচয় থেকেই যায়, কাকলী চায় তার খালাত বোনের একটা মেয়ে অথবা এমন একটা বাচ্চা যার কোন পূর্ব পরিচয় থাকবে না। কাকপক্ষীর মতো আহার মুখে তুলে দেবার পর কেউ ছোঁ মেরে নিয়ে যেতে পারবে না।

একদিন সকালবেলা রেজা সাহেব দাঁত ব্রাশ করছিলেন আর কাকলী নাস্তা তৈরি করছিলেন এমন সময

Facebook Twitter Email

চোখের সামনে যেকোন অসঙ্গতি মনের মধ্যে দাগ কাটতো, কিশোর মন প্রতিবাদী হয়ে উঠতো। তার বহিঃপ্রকাশ ঘটতো কবিতা লেখার মধ্য দিয়ে। ক্ষুধা ও দারিদ্রের বিরুদ্ধে, নির্যাতন ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদী কবিতা। কবিতার পাশাপাশি সামাজিক অসঙ্গতি নিয়ে শুরু হলো ছোটগল্প, উপন্যাস লেখা। একে একে প্রকাশিত হতে থাকলো কাব্যগ্রন্থ, উপন্যাস। প্রকাশিত হলো অমর একুশে বইমেলা-২০২০ পর্যন্ত ০১টি কাব্যগ্রন্থ, ১৪ টি উপন্যাস, ০৪ টি কিশোর উপন্যাস, ০১ টি গল্পগ্রন্থ এবং ০১ টি ধারাবাহিক উপন্যাসের ০৩ খণ্ড। গ্রন্থ আকারে প্রকাশের পাশাপাশি লেখা ছড়িয়ে পড়লো অনলাইনেও। লেখার শ্লোগানের মতো প্রতিটি উপন্যাসই যেন সামাজিক অবস্থার প্রতিচ্ছবি।

Posted in উপন্যাস