Blog Archives

জীবনের শেষ গোধূলী

ষাট/পঁয়ষট্টি বছর বয়সের এক মহিলা, সমস্ত চুল পাকা সাদা ধবধবে, পাটের মতো সাদা। কপালের চামড়ায় ভাঁজ পড়েছে, চিবুক, গালের চামড়ায়ও অসংখ্য ভাঁজ পড়েছে। সেই বুড়ি বারো শিবালয় মন্দিরের গা ঘেঁষে প্রাচীন বটগাছটার আশেপাশে, ছোট যমুনা নদীর তীরে সেই বিকেল থেকে

Posted in ছোটগল্প

ট্রেন টু ভিলেজ

ক্লাস থেকে বেরিয়ে আসতে আসতে রকি টনিকে বললো, এই টনি তুই এবার ভ্যাকেশনে কী করবি? কী করবো মানে? রকি বললো, আমার মাথায় একটা আইডিয়া এসেছে। কী আইডিয়া? এবার ভেকেশনে আমি গ্রামে যাবো। টনি রকির কথা শুনে লাফিয়ে উঠলো, ওয়াও গুড

Posted in উপন্যাস

সাইক্রিয়াটিস্ট

আজ সকাল থেকে ইরার মনটা খারাপ। প্রতিদিনের মতো সকালবেলা উঠে নাস্তা তৈরি করেনি। ড্রয়িং রুমের ছোট্ট চৌকিটায় শুয়ে শুয়ে টি.ভি দেখছে ঠিক সেভাবে বসে সেভাবে জয় যেভাবে জয় এই চৌকিটায় এসে বসতো সেভাবে। সেদিন ইরার সকালবেলা উঠেই ব্যস্ততা শুরু হয়েছিলো।

Posted in ছোটগল্প

তোমাকে দেখার মতো চোখ নেই-

প্রতিদিন সকালবেলা রাহাত অফিসে বেরিয়ে যায় আর ফিরে আসে একেবারে সন্ধ্যায়। সারাদিন আর বাপ-মেয়ের দেখা হয় না ঠিকই কিন্তু রাতের খাওয়া হয় দু’জনের এক টেবিলে বসে, তারপর কিছুক্ষণের আড্ডা। তাদের পরিবারের সদস্য সংখ্যা এই দু’জনই। ছোট কিন্তু বাপ আর মেয়ের

Posted in ছোটগল্প

সেই চলে যাওয়া….

তামান্নার সঙ্গে প্রতীকের সম্পর্কটা শুরুই হয়েছিল ঝগড়া দিয়ে। তারপর একসময় ঝগড়া থেকে রুপ নেয় মৈত্রীর, বন্ধুত্বের, ভালোবাসার। ভালোবাসাই বা কীভাবে বলা যায়? প্রেমিক-প্রেমিকাদের মধ্যে একজনের পছন্দ-অপছন্দ এবং আশা-আকাংখার প্রতি আরেকজনের সম্মান থাকে, প্রতিশ্রুতি থাকে, স্বপ্ন থাকে কিন্তু তাদের হৃদয়ে এসবের

Posted in ছোটগল্প

হাসি কান্নার ঈদ

ঈদ মানে আনন্দ, ঈদ মানে খুশী। তাই রমযানের চাঁদ দেখার পর থেকেই আরম্ভ হয়ে যায় ঈদ উদযাপনের প্রস্তুতি, কেনাকাটার ধুম। রাজধানীর শপিং সেন্টাগুলোতে শুরু হয়ে যায় দামি কাপড়, অর্নামেন্টস, কসমেটিকস, ফ্যাশন সামগ্রী কেনার প্রতিযোগিতা। মফ:স্বল শহর এমনকি গ্রাম-গঞ্জের হাট-বাজারগুলোও এদিক

Posted in ছোটগল্প

অনুশোচনা

প্রাপ্তির বয়স এখন বারো বছর, সবকিছু বুঝতে শিখেছে। আজকাল শিরিন কিছু বললেও হায়দার সাহেব এদিক-ওদিক তাকিয়ে প্রাপ্তিকে কাছে দেখলে নিঃশব্দে এড়িয়ে যান। আর আশে-পাশে কাউকে না দেখলে গম্ভীর মুখে শিরিনের কথার জবাব দিয়ে ভিতরে চলে যান। হায়দার সাহেব আজ সারাদিন

Posted in ছোটগল্প

এলো খুশির ঈদ

ক’দিন আগে অতিবাহিত হলো মহাআনন্দের ঈদ। এদিনে সারাদেশে মুসলমানদের ঘরে ঘরে আনন্দের সীমা ছিল না। ঢাকা শহরে এ আনন্দের পূর্বাভাষ পরিলক্ষিত হয়েছিল রমযানের প্রায় শুরু থেকেই। ঈদের কয়েকদিন পূর্ব থেকেই মার্কেটগুলো সজ্জিত হয়েছিল অত্যাধুনিক সাজে, কেনাকাটায় ভিড় ছিল অস্বাভাবিক, দ্রব্যমূল্যের

Posted in ছোটগল্প

লুটের রাজ্য

এক দেশে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি হলো। প্রকাশ্য দিনের বেলায় লুটেরারা লুট করলেও বিচার হতো না। জোর করে একজনের টাকা-পয়সা লুট করে নিয়ে গেলেও কোনো বিচার হতো না। যাকে কোনো অবস্থাতেই যুদ্ধাবস্থ থেকে কম বলা যায় না। এক ক্ষেতমজুর, হারাধন

Posted in ছোটগল্প

পুলিশ: যাঁহাই বেল তাঁহাই বোমা

পুলিশেরই বা দোষ কী? প্রতিদিন সকালবেলা বাজার করার জন্য তার শ’তিনেক টাকার প্রয়োজন। এই উর্দ্ধমূল্যের বাজারে তিন’শ টাকারই বা কী দাম আছে। ছোট চাকুরী তাই চাহিদাও কম। মাত্র তিনশ টাকা। কিন্তু এই তিন’শ টাকা না পেলে তার পায়ের রক্ত মাথায়

Posted in ছোটগল্প

দামি শাড়ি

মমতাজের চাহিদা বেশি না। ঈদে একটা দামি শাড়ি তার সঙ্গে ম্যাচিং করে ব্লাউজ, পেটিকোট, হাতে ইমিটেশনের চুড়ি আর সামান্য কিছু কসমেটিকস। ছেলেমেয়েদের বায়না নিয়ে তার কোন দুশ্চিন্তা নেই। তারা ঠিক তার মতোই হয়েছে। ঈদের ক’দিন আগে মোখালেস মিয়া সবাইকে নিয়ে

Posted in ছোটগল্প

নারী: তো সেই বাড়ির মালিক নয়

এই বাড়িটাকে রিনি নিজের বাড়ি ভেবেছিলো। বাড়ির প্রতিটি ইটের সঙ্গে, প্রতিটি বালুকণার সঙ্গে পাঁজরের হাড়ের মতো প্রতিটি রডের সঙ্গে মিশে আছে তার অক্লান্ত পরিশ্রম, মেধা ও সৃজণশীলতা। রিনির স্বপ্ন ছিলো একদিন তার একটা বাড়ি হবে। বিশাল অট্টালিকা নয়, এক ছেলে,

Posted in ছোটগল্প

ক্যামেরার চোখ

একজন কবিকে ঘিরে ভক্তদের একটা জটলা তৈরি হয়েছে। কবির কাঁধে ঝুলানো ব্যাগ, পরণে পাঞ্জাবি আর পাজামা। কবি ভক্তদের সাথে হেসে হেসে কথা বলছেন, অটোগ্রাফ দিচ্ছেন আর টি.ভি ক্যামেরাগুলোতে চলছে বিরামহীন ভিডিও। বইমেলায় ঢুকতেই এ দৃশ্য দেখে কবি আব্দুর রাজ্জাক মুন্সির

Posted in ছোটগল্প

ইলিশের স্বাদ

সাজু ক্লাস থ্রি-তে পড়ে। লেখাপড়ায় মোটামুটি ভালো। তাই ক্লাস টিচার তাকে খুব পছন্দ করেন। আর সেকারণেই পড়াশোনার পাশাপাশি তাকে সব বিষয়ে একটু বেশি জিজ্ঞেস করেন। এসব জিজ্ঞাসার মধ্যে অনেককিছু প্রয়োজনীয় আবার কিছু অপ্রয়োজনীয় এবং অপ্রাসঙ্গিক। যেমন: কার বাবা কী করে?

Posted in ছোটগল্প

পরীর স্বপ্ন

মেয়েটির হাসিটি খুব সুন্দর কিন্তু তার শব্দ করে হাসতে মানা, মেয়েটির কান্নার শব্দটি অত্যন্ত করুণ কিন্তু তার কাঁদতে মানা। মেয়েটির হাঁটুনিতেও একটা আর্ট আছে কিন্তু তার ঘর থেকে বের হতে মানা। মেয়েটি এখন ক্লাস এইটের ছাত্রী, আগামীতে তার জে.এস.সি পরীক্ষা

Posted in উপন্যাস

ছায়া পুরুষ

তন্দ্রা এটা চায়নি। সে জীবনটাকে সাজাতে চেয়েছিল নিজের মতো করে, তার স্বামী থাকবে, সংসার থাকবে, সন্তান থাকবে, এই সব নিয়ে সে একটা স্বর্গ রচনা করবে, স্বর্গ! সকালবেলা ঘুম থেকে উঠেই তাড়াহুড়া করে স্বামীর জন্য নাস্তা তৈরি করবে, বাচ্চাকে স্কুল যাওয়ার

Posted in উপন্যাস

ক্রিকেটার তূর্য (কিশোর উপন্যাস)

আন্ত:স্কুল ক্রিকেট খেলা চলছে। খেলায় টান টান উত্তেজনা, টি-টুয়েন্টির শেষ ওভারের খেলা। একটিমাত্র উইকেট নিয়ে আরো দশ রান করতে হবে এক ওভারে। ব্যাট করছে তূর্য। ভালো ব্যাটসম্যান হিসেবে স্কুলের শিক্ষকদের এমনকি ছাত্র-ছাত্রীদেরও তার প্রতি বিশ্বাস আছে। তাছাড়া ক্রিকেটে তূর্য প্রফেশনাল

Posted in উপন্যাস

গডফাদার-০১

শৈশব থেকেই জামাল অত্যন্ত চঞ্চল, চটপটে আর ডানপিটে ছিল। প্রতিদিন স্কুলে কোন বন্ধুর কান টেনে ধরা, গালে চড় দেয়া বা কারো বই ছিঁড়ে দেওয়া এসব ছিল তার নিত্যদিনের অভ্যাস। স্কুলে দেরিতে যাওয়া, টিফিন পিরিয়ডে স্কুল থেকে পালিয়ে বাসায় ফেরা, স্কুলের

Posted in উপন্যাস

গডফাদার-০২

সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয়লাভ করে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক দেশপ্রেমিক দল নির্বাচনে জয়ী হলো, কয়েকবার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার পর এবারই প্রথম মোস্তফা সাহেব সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেন। তাঁর আনন্দের সীমা রইল না। তাঁর সঙ্গে জামাল এবং দলের অন্যান্য নেতা কর্মীরাও যেন আনন্দে মেতে

Posted in উপন্যাস

গডফাদার-০৩

জামাল সাধারণত সকালবেলা বাসা থেকে বের হয়, সারাদিন বাসার বাইরে কেটে যায়। আজ জামাল হঠাৎ করে বাসায় দুপুরে ভাত খেতে বাসায় ঢুকল। অনন্যা জামালকে দেখে কিছুটা অবাক হলো, তুমি দুপুরে বাসায়? অনন্যা ভাত দাও, বলে জামাল ডাইনিং টেবিলের সামনে চেয়ারে

Posted in উপন্যাস

অপেক্ষা

কাশিমপুর কারাগার-২। গেটে বড় বড় করে লেখা, ”রাখিব নিরাপদ দেখাব আলোর পথ”। এই কারাগারের বাইরে সাক্ষাৎ  প্রার্থীরা অপেক্ষা করছে। ভিতরে, এই কারাগারের উঁচু, অপ্রতিরোধ্য দেওয়াল বেষ্টিত স্থানে তাদের প্রিয়জনরা এতক্ষণে জেনে গেছে বাইরে তাদের জন্য তাদের নিকটজনেরা অপেক্ষা করছে। এই সাক্ষাৎ

Posted in উপন্যাস

খুঁজে ফিরি তারে

আরশী মোবাইলের বাটন টিপলো, দুঃখিত এই মুহূর্তে মোবাইল সংযোগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না, অনুগ্রহপূর্বক কিছুক্ষণ পর আবার ডায়াল করুন। আরশী মোবাইলটা বিছানার ওপর ছুঁড়ে দিল, তোমারই বা দোষ কী? তোমার সঙ্গে তো আমি নিজেই সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছি, তুমিই বা নতুন

Posted in উপন্যাস

সেই ছেলেটি

শহরে মাইকিং হচ্ছে, একটি হারানো বিজ্ঞপ্তি, একটি হারানো বিজ্ঞপ্তি, সৌরভ নামে চৌদ্দ/পনেরো বছর বয়সের একটি ছেলে হারিয়ে গেছে, ছেলেটির গায়ের রং উজ্জ্বল শ্যামলা, লম্বা চার ফুট দশ ইঞ্চি, গালের ডান পাশে একটি কালো, বড় তিলক আছে। হারিয়ে যাওয়ার সময় ছেলেটির

Tagged with:
Posted in উপন্যাস

তবুও আমি তোমার

সবকিছু থেকেও রেজা সাহেবের যেন কিছু নেই, ঘরে সুন্দরী স্ত্রী আছে, গাড়ি আছে, আলীশান শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাসায় বসবাস করেন, বিলাসবহুল জীবন-যাপন করেন। সবকিছু থাকার মধ্যেও যেন তার মনে সুখ নেই। এত অর্থ বিত্তের মধ্যে তার মন সব সময় একটা অভাব

Posted in উপন্যাস

দাগ

শুভ্রর চোখে চোখ পড়তেই উর্মী চমকে উঠল, আপন মনে বলল, শুভ্র না? হ্যাঁ শুভ্রই তো, ক্লাস সিক্স থেকে ক্লাস এইট পর্যন্ত ক্লাসের সেকেন্ড বয় ছিল। শুভ্র আপন মনে বলল, মেয়েটা এমন একটা বোরকা পরেছে শুধু মুখ কেন, চোখ দু’টাও দেখার

Posted in উপন্যাস

দুর্নীতিবাজের ডায়েরি

নীলার বান্ধবী বৃষ্টি। শুধু বান্ধবী বললে ভুল হবে একেবারে ঘনিষ্ঠ বান্ধবী, দুজনের মধ্যে যেন আত্মার সম্পর্ক। ক্লাস ফাইভ পাস করার পর নীলা যখন চক ময়রাম হাই স্কুলে ভর্তি হলো তখন দু’জনের মধ্যে প্রথম পরিচয়। তারপর থেকে এক সঙ্গে এইচ.এস.সি পর্যন্ত

Posted in উপন্যাস

প্রিয়ন্তী

প্রিয়ন্তীর সঙ্গে সুশান্তর বিয়ে হয়েছে তিনবার। একই বর-কনে তিনবার বিয়ের বিষয়টি অনেকের মনে কৌতূহলের সৃষ্টি করল, কারো অবিশ্বাস্য মনে হলো, কারো কারো মনে হাস্য রসের সৃষ্টি করল, কারো কারো হৃদয়কে আহত করল।  কিন্তু একই বর-কনের মধ্যে তিনবার বিয়ে হবে কেন?

Posted in উপন্যাস

আঁচলে…

বিদ্যার কমতি থাকলেও বুদ্ধির কমতি মোটেই নেই। সমস্ত কিছুতেই যেন সে রাম বলতেই রহিম বুঝতে পারে। মেধা থাকা সত্ত্বেও সে উকিল হতে পারেনি বটে কিন্তু মহুরি হিসাবে অতি অল্প বয়সে সে যেন সমস্ত মহুরির ওস্তাদের স্থান দখল করেছে। ঊর্মির চরে

Posted in উপন্যাস

স্বপ্ন

পার্কের গেট দিয়ে ঢুকতেই দু’জনের হাত এক হয়ে গেল, তারপর হাঁটতে হাঁটতে একটি গাছের নীচে গিয়ে বসল। মাহমুদ মুক্তির হাতে হালকা চাপ দিয়ে বলল, তোমার কি আমাদের প্রথম পরিচয়ের কথা মনে পড়ে? তুমি বার বার করে আমার দিকে তাকাচ্ছিলে, কথা

Posted in উপন্যাস

বন্ধন

বিমান থেকে নেমে আকাশের দিকে তাকিয়ে ইকবাল দীর্ঘ নিঃশ্বাস টেনে বলল, সুখ, বুক ভরা সুখ। তারপর দূরে দিগন্ত বরাবর অনেকক্ষণ অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল। আজ অনেক বছর পর নিজের জন্মভূমিকে সে যেন নতুনভাবে আবিষ্কার করল। বারো বছর আগে উচ্চ শিক্ষার্থে

Posted in উপন্যাস

অবশেষে…

বিয়ের ধুমধাম আয়োজন চলছে। কিছুক্ষণ আগে রুমীর বান্ধবী বরযাত্রীদের গাড়ি গেটের কাছে আসার খবর জানাল। বাইরের আনন্দ উল্লাস যেন রুমীর হৃদয় ভেঙে চুরমার করে দিচ্ছে। তার অন্তরে তখন সোহেলের স্মৃতিগুলো ভেসে উঠছে, সোহেল ব্যবসার কাজে ঢাকা গেছে, ফিরতে আরো অনেকদিন

Posted in উপন্যাস

ভ্যালেন্টাইন্‌স ডে

নিত্যদিনের মতো পলাশ কলেজ থেকে বাড়ি ফিরছিল হঠাৎ আকাশটা মেঘে ঢেকে গেল। আরো প্রায় এক কিলোমিটার দূরে বিঞ্চুপুর গ্রাম। পলাশ সজোরে সাইকেল চালিয়ে বিঞ্চুপুর গ্রামের কাছে আসতেই প্রচণ্ড বৃষ্টি শুরু হলো। পলাশ কোন রকমে রাস্তার পাশে একটা বাড়ির টিনের চালার

Posted in উপন্যাস

চ্যাটিং চিটিং ডট কম

হাতের মোবাইলটাই মিথিলার নিঃসঙ্গতা থেকে মুক্তির একমাত্র অবলম্বন, মোবাইলটাই তার সুখ-দুঃখ ভাগাভাগি করার সবচেয়ে ভালো বন্ধু। মোবাইলের সে অনেকের সঙ্গে কথা বলে যাদের সে চেনে না, কোনদিন দেখেনি, হয়ত কোনদিন দেখাও হবে না। আগে কখনো খারা লাগলে মাকে মোবাইল করতো,

Posted in ছোটগল্প

বন্ধু

দু’জনেরই পরষ্পরের প্রতি ভালোবাসা আছে, বিশ্বাস আছে, নির্ভরতা আছে, একটা বিষয়ে দু’জনের বিশ্বাস গভীর আর সেই বিশ্বাসটা হলো, বন্ধুত্ব। প্রায় বেশিরভাগ বিষয়ে তাদের দৃষ্টিভঙ্গী একই, হয়ত সে কারণে দু’জনের বন্ধুত্বটা আরো বেশি। স্বার্থের সম্পর্ক নয়, রক্তের সম্পর্ক নয়, সম্মানের সাথে

Posted in ছোটগল্প

কাজের মেয়ে

আজ আলতা ঢাকা যাবে। মিয়া বাড়ির ছোট মেয়ে রুমা ঢাকায় থাকে, তার একমাত্র মেয়ে সবেমাত্র হাঁটি হাঁটি পা পা করে হাঁটতে শিখেছে, তার সাথে খেলা করার জন্য, তাকে সঙ্গ দেয়ার জন্য আর রুমার সাংসারিক কাজে একটু-আধটু হাত বাড়িয়ে দেয়ার জন্য

Posted in ছোটগল্প

রুপার বিয়ে

ক’দিন থেকে রুপা অসুস্থ বোধ করছে, মাথাটা কেমন যেন ঝিমঝিম করছে, সবসময় একটা বমি বমি ভাব লেগেই আছে, সে লক্ষ্য করেছে তার শরীরে কিছু অস্বাভাবিক পরিবর্তনও শুরু হয়েছে। কাকে বলবে রুপা তার এই অসুস্থতার কথা? তার মনে হচ্ছে এটা যেন

Posted in ছোটগল্প

শুভঙ্করের ফাঁকি

দোলার মোবাইলের মনিটরে রাখা রোমানের ছবিটা সে মাঝে মাঝেই বের করে দেখে, ডানে বাঁয়ে তাকিয়ে মাঝে মাঝে চুমু দেয়। বন্ধু-বান্ধবী কিংবা সহকর্মীদের অনেকেই বিষয়টা জানে, কেউ কেউ হাসি ঠাট্টা করে, আবার কেউ কেউ ঈর্ষা করে। তাতে দোলার কিছু আসে যায়

Posted in ছোটগল্প

বিয়ে বিয়ে খেলা

মেয়েটির বয়স আর কতোই বা হবে বড় জোর এগারো বা বারো। অথচ বিয়ের জন্য পাত্র সন্ধানের কাজ শুরু হয়েছে আরো বছর খানেক আগে। গায়ে গহনা, পায়ে আলতা, নাকে নোলক, মাথায় ঘোমটা লাগিয়ে নারীত্ব শেখানোর কাজ শুরু হয়েছে সেই সাত/আট বছর

Posted in ছোটগল্প